মেনু নির্বাচন করুন

সৈয়দপুরের চিনি মসজিদ

সৈয়দপুরের ঐতিহাসিক চিনি মসজিদ  :
উত্তরাঞ্চ লের ঘনবসতিপূর্ণ সৈয়দপুর শহরে রয়েছে প্রচুর মসজিদ । রাজধানি ঢাকার পরেই মসজিদের শহর বললে সৈয়দপুরকে বলতে হয় । কারণ সৈয়দপুর শহর  ও গ্রামঞ্চলের  আনাচে কানাচে ছোট বড় অসংখ্য মসজিদ গড়ে উঠেছে যা ইসলামি দৃষ্টিকোণ থেকে সৈয়দপুরকে স্বতন্ত বৈশিষ্ট মন্ডিত  করেছে । অনন্য স্থাপত্য নিদর্শনের জন্য বিখ্যাত সৈয়দপুর শহরের ঐতিহাসিক  চিনি  মসজিদ । নির্মাণশৈলী ও সৌন্দর্যের দিক দিয়ে সৈয়দপুর শহরের চিনি মসজিদ স্বাতন্তের অধিকারী । এর নির্মাণ কাজ শুরু হয় ১৮৬৮ সালে । প্রথমে মসজিদটি দো-চালা টিনের ঘর হিসেবে নির্মাণ করা হয় । পরবর্তীতে ১৯২০ সালে ইমাম হাজী হাফিজ করিমের উদ্যেগে ৩৯ বাই ৪০ ফুট আয়তনের মসজিদটি প্রথম অংশ পাকা করা হয় । এই অংশে নক্শা করেছিলেন হাজী আব্দুল করিম নিজেই । ১৯৬৫ সালে মনজিদের দ্বিতীয়  অংশ নির্মাণ করা হয় । মসজিদের গোটা অবয়ব রঙিন উজ্জল পাথরে আবৃত । কলকাতা থেকে সে সময় ১৪৩ খানা সংকর মর্মর পাথর এনে লাগানো হয় । এছাড়াও চিনা মাটির টুকরো দিয়ে আবৃত মসজিদের গায়ে লাগানোর জন্য সে সময় বগুড়া গ্লাস ফ্যাক্টরি প্রায় ২৫ মেট্রিক টন চীনা মাটির পাথর দান করেছিল । এভাবে মসজিদটি গড়ে উঠে শহরের ইসলামবাগ  এলাকায় । অত্যন্ত  নয়ানাভিরাম এ মসজিদটির ৩২টি মিনার রয়েছে , এছাড়াও রয়েছে বড় ৩টি গম্বুজ । চীনা মাটির টুকরো দিয়ে ফুল ও গাছগাছড়ার নক্শা এবং মসজিদের দক্ষিণের বারান্দারটি সম্পূর্ণ সাদা সিমেন্টের মোজাইক করা ।
এছাড়াও মসজিদের প্রবেশের জন্য উত্তর দক্ষিণে দু’টি ফটক রয়েছে । দোতলায় রয়েছে একটি কক্ষ । মসজিদ রয়েছে খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের গোরাস্থান । মসজিদের অনন্য নির্মাণশৈলী  ও সৌন্দর্য্য দেখতে দেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে অনেক লোকজন আসেন ।

 

 

১৮৬৩ সালে কয়েক’শ দক্ষ কারিগর দ্বারা প্রতিষ্ঠিত হয় সৈয়দপুর চিনি মসজিদ।  এর গায়ে লাগানো রয়েছে ২৪৩ টি শংকর মর্মর পাথর, পাথরের সাথে লাগিয়ে দেয়া হয় ২৫ টনের মতো চীনামাটির টুকরা। নয়নাভিরাম এই মসজিদটির ২৭ টি মিনার রয়েছে যার ৫টি এখন অসম্পূর্ণ মিনার। মসজিদটির উত্তর পার্শ্বের নতুন ভবনের কাজ চলছে।  


Share with :

Facebook Twitter